Breaking News
Home / Cricket / স্মিথের শাস্তি, আলোচনার তীর সাকিবের দিকে!

স্মিথের শাস্তি, আলোচনার তীর সাকিবের দিকে!

অবাক হচ্ছেন শিরোনাম দেখে? ভাবছেন সাকিব আর স্মিথকে কেন এই এক করার প্রয়াস। এক করার কারণ নিশ্চয়ই একটা আছে। তাঁর আগে চলুন দুটি ঘটনার ওপর একটু আলোকপাত করা যাক।







ঘটনা ১
নিদাহাস ট্রফির অঘোষিত সেমিফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। শেষ ওভারে দরকার ১২ রান। আগের ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে মিরাজ রান আউট হয়, স্ট্রাইক হারান মাহমুদউল্লাহ। শেষ ওভারে স্ট্রাইকে এলেন মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথম বলে কোনো রান হলো না, পরের বলে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে আউট মুস্তাফিজ। মুস্তাফিজকে উদানা দুটি ওভার বাউন্সার দিলেও আম্পায়াররা কোনো অতিরিক্তের সংকেত দেয়নি। যার প্রতিবাদে সাকিব আল হাসান নিজেই উত্তেজিত, সঙ্গে অন্যন্য খেলোয়াড়রাও। ম্যাচ রেফারির শরণাপন্ন হয়েও কোনো সুরাহা না পেয়ে মাহমুদউল্লাহদের মাঠ থেকে উঠে আসতে বললেন সাকিব। শেষ পর্যন্ত খালেদ মাহমুদ সুজনের হস্তক্ষেপে শান্ত হন সাকিব, মাঠে ফিরে যান ব্যাটসম্যানরা।







সাকিবকে পরে ম্যাচ রিফারি ডেভিড বুন ম্যাচ ফি’র ২৫ শতাংশ জরিমানা করেছে সাকিবকে সেই সাথে নামের পাশে যুক্ত হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্টও। একই সঙ্গে লঙ্কান ক্রিকেটারদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ায় এক ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছেন নুরুল হাসান সোহানও।







ঘটনা ২
কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিনে দ্বিতীয় সেশনের সময় ঘটনা। টিভিতে ধরা পড়ে, হলুদ কাপড়ের মত কিছু একটা পকেট থেকে বের করেছিলেন ব্যানক্রফট। পরে সেটি লুকানোর চেষ্টা করেন তার ট্রাউজারের ভেতরে। আর সেই ভিডিও খুব দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়। পরে অজি অধিনায়ক স্মিথ ও ওপেনার ব্যানক্রফটও বল টেম্পারিয়েংয়ের অভিযোগ স্বীকার করে নেন। বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ এক টেস্ট নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। পাশাপাশি তাঁর ম্যাচ ফির পুরোটাই জরিমানা করা হয়েছে। তবে বল টেম্পারিং করা ক্যামেরন ব্যানক্রফট জড়িমানাতেই পার পেয়ে গেছেন। ম্যাচ ফির ৭৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে তাঁর।







এবার মূল ঘটনায় আসা যাক।

দুটি ঘটনাই হয়তো পুরোপুরি ভিন্ন। কিন্তু দুটি ঘটনার এক জায়াগায় বেশ মিল। দুটি ঘটনাই আইসিসি এবং ক্রিকেট খেলার নিয়ম ও আচরণ বহির্ভূত ঘটনা। কিন্তু ক্রিকেটিয় শিষ্টাচারের দিক থেকে স্মিথের ঘটনাটি বেশ ন্যাক্কারজনক এবং ক্রিকেটের জন্য লজ্জার।টেম্পারিং নতুন কিছু নয়। তবে পুরো দলীয় সিদ্ধান্তে এমন বল টেম্পারিংয়ের নজির আগে কখনো দেখনি ক্রিকেট বিশ্ব। তাও আবার অস্ট্রেলিয়ার মত দলের সঙ্গে। ক্রিকেট তো একটি খেল, দিনশেষে এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের ভালো সম্পর্ক তৈরী এবং বিনোদনের উপলক্ষ্য মাত্র। কিন্তু জয়ের জন্য এভাবে অসৎ উপায় অবলম্বন করা খুন করার মত অপরাধ। আর সাকিবের আচরণ ছিল মাঠে আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।







কিন্তু সাকিব এবং বাংলাদেশকে যতটা ধিক্কার শুনতে হয়েছে। ততটা কি স্মিথ বা অজিরা শুনেছে। কই এখন তো সুশীল সুনীল গাভাস্কার কিংবা সঞ্জয় মাঞ্জেকারকে কিছু বলতে দেখা গেল না। কোনো শ্রীলঙ্কানকে কোনো কথা বলতে দেখা গেল। সবাই যেন প্রায় মৌনতা পালন করছে। একমাত্র ইংলিশরা ছাড়া আর কাউকেই কুছু বলতে দেখা গেল না।







একই সঙ্গে ঘটনার তাৎপর্য ও গুরুত্ব বিবেচনায় আইসিসির থেকে শাস্তির পরিমানটা সাকিবই বেশি পেয়েছে, স্মিথ নয়। ম্যাচ ফির ১০০ ভাগ আর এক ম্যাচ নিষিদ্ধ এমনই বা কি শাস্তি। অনেকটা দুধভাতের মত। স্মিথদের আসল শাস্তি দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। হয়তো সে শাস্তিটাও ঙ্কিছুটা কম হয়ে গিয়েছে!

Check Also

সুখবরঃ বিসিবির নতুন নিয়মে সুযোগ পাচ্ছেন তারা, তালিকার শীর্ষে আছেন আশরাফুল। ২য় শাহরিয়ার নাফিস। পড়ুন বিস্তারিত

ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএল। প্রতিবছরই বিপিএল শুরু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: