Breaking News
Home / Cricket / শুভ জন্মদিন ‘৭৫’ সাকিব’

শুভ জন্মদিন ‘৭৫’ সাকিব’

শুভ জন্মদিন বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার বেয়াদব সাকিব আল হাসান। আমরা গর্বিত তোমার এই বেয়ায়দবী নিয়ে। আমরা গর্বিত তুমি বেয়াদব হয়ে বাংলাদেশে জন্মেছো বলে। একটা পরিবারের সব সন্তানই যে নম্র-ভদ্র, শান্ত স্বভাবের হতে হবে এমন কোন কথা নেই। তোমার মত একটা বেয়াদবেরও দরকার আছে। যে মাথা উচু করে শত্রুর চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারবে।

তুমি বেয়াদব না হলে কিছুদিন আগে নিদাহাস ট্রফিতে আমাদের বিপক্ষে অবিচারের প্রতিবাদ কে করতো? তুমি বেয়াদব না হলে কে তখন মাঠ ছেড়ে চলে আসার সাহস দেখাতো? তুমি বেয়াদব না হলে কে পারতো জার্সি খুলে মাঠে যেয়ে জয় উদযাপন করতে? তুমি বেয়াদব না হলে কে খুলনায় ওয়াহাব রিয়াজের চোখে আঙুল রেখে কথা বলতো? তুমি বেয়াদব না হলে কে বেন স্টোকসকে আউট করে স্যালুট জানাতো? তাই আমরা গর্বিত তোমার মত একটা বেয়াদবকে পেয়ে।

১৯৮৭ সালেরর আজকের এই দিনে খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন সাকিব। ছোট বেলায় ক্রিকেটেএ চেয়ে ফুটবলেই বেশি মন ছিল সাকিবের। স্বপ্ন ছিল ফুটবলার হওয়ার। কিন্তু বিধাতা যে তার কপালে লিখে রেখেছে ক্রিকেট। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও ক্রিকেটেও তিনি ছিলেন অনেক প্রতিভাবান। কিশোর বয়সেই মাগুরার বিভিন্ন গ্রামে বিভিন্ন দলের হয়ে ভাড়ায় ক্রিকেট খেলতেন তিনি। এমনই এক ম্যাচ খেলার সময় ওই ম্যাচের এক আম্পায়ার মুগ্ধ হয় সাকিবের প্রতিভা দেখে। তিনিই প্রথম সাকিবকে স্থানীয় একটি ক্লাব ইসলামপুর পাড়া ক্লাবের হয়ে অনুশীলনের সুযোগ করে দেন। অনুশীলনে সাকিবের আগ্রাসী ব্যাটিং ও বোলিং দেখে মুগ্ধ হয় কোচ। পরে তাকে ক্লাবের হয়ে একটি ম্যাচে নিলে ক্রিকেট বলে করা নিজের প্রথম বলেই উইকেট পান সাকিব।

সেই শুরু এরপর আর কখনই পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সাকিবকে। এরপর বিকেএসপিতে তিনি ৬ মাসের ট্রেনিং নেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের জন্য নির্বাচিত হন তিনি। একই বছর ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের মধ্যকার আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ৩ উইকেট ও ৮৬ বলে শতক হাঁকিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। ২০০৫-০৬ এর মধ্যে অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ১৮ টি ম্যাচ খেলে ৩৫.১৮ গড়ে ৫৬৩ রান ও ২০.১৮ গড়ে ২২ উইকেট নেন সাকিব।

২০০৬ সালের ৬ আগষ্ট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে ওয়ানডে অভিষেক হয় সাকিবের। অভিষেকেই ব্যাট হাতে ৩০ রান ও বল হাতে ১ টি উইকেট নেন সাকিব। পরের বছর ৬ মে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকও হয়ে যায় সাকিবের। এরপর থেকে নিয়মিতই ব্যাট ও বলে পারফর্ম করে যান সাকিব। তবে তিনি বিশ্বসেরা তা সকলের নজরে আসে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে অসাধারণ এক ইনিংস খেলে। বৃষ্টির কারণে ৫০ ওভারের খেলা হয় ৩১ ওভারে। আর ৩১ ওভারে বাংলাদেশের টার্গেট ছিল ১৪৭ রান।সেখানে ১১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুকছিল বাংলাদেশ। তখন দলের সেই বিপদের মুহূর্তে ৬৮ বলে অপরাজিত ৯২ রানের ম্যাচ উইনিং এক ইনিংস খেলেন সাকিব। আর সেই থেকে বাংলাদেশও যে বিশ্বসেরা ক্রিকেটারের জন্মদিতে পারে তা সাকিবই বিশ্বাস করিয়েছিলেন পুরো পৃথিবীকে। ওই সিরিজ চলাকালীন সময়ই (২০০৯ সালের জানুয়ারি) সর্বপ্রথম বাংলাদেশী কোন ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসি র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে ওঠেন তিনি। ওয়ানডেতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার হিসেবে জ্যাক ক্যালিস,শেন ওয়াটসনদের পেছনে ফেলে জায়গা করে নেন শীর্ষ অবস্থান। এরপর ২০১১ সালে টেস্ট অলরাউন্ডার র‍্যাংকিংয়ের ও শীর্ষে উঠে আসেন সাকিব। ২০১৪ সালে টি-টুয়েন্টির অলরাউন্ডার র‍্যাংকিংয়েরও শীর্ষে ওঠেন তিনি। আর এরই সাথে পৃথিবীর একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে সব ফরম্যাটেই নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।

 

২০০৯ সালে বাংলাদেশের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে নিয়মিয় অধিনায়ক মাশরাফির ইনজুরিতে প্রথমবারের মত টাইগারদের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান সাকিব। অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম সিরিজেই পেয়েছিলেন অভাবনীয় সাফল্য। তার নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই টেস্ট(২-০) ও ওয়ানডেতে (৩-০) হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ।

দেশের ও পুরো বিশ্বের অনেক রেকর্ডই সাকিবের দখলে। তাকে বলা হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের রেকর্ড বয়। দ্রুততম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫০০০ রান ও ২০০ উইকেটের মালিক তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাত্র চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে ৪০০ উইকেট ও দশ হাজার রানের মালিক তিনি। মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এক টেস্টে সেঞ্চুরি ও দশ উইকেট নিয়েছেন তিনি।মাত্র চতুর্থ বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে সকল দেশের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। এছাড়া টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের (২১৭) ইনিংসটিও তার। এছাড়া বাংলাদেশের টেস্ট ও ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের জুটিতেও রয়েছে তার নাম।কিছুদিন আগে টাইগারদের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়েররও প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেটকে তিনি যা যা দিয়েছেন তা একদিনে বলে শেষ হবার নয়। তাই এখানেই শেষ করা শ্রেয়।

সবশেষে তাই আবারো বলতে শুভ জন্মদিন ‘বেয়াদব সাকিব’। তোমার এই বেয়াদবী দিয়ে দেশকে এনে দেও আরো অনেক অর্জন।

Check Also

সুখবরঃ বিসিবির নতুন নিয়মে সুযোগ পাচ্ছেন তারা, তালিকার শীর্ষে আছেন আশরাফুল। ২য় শাহরিয়ার নাফিস। পড়ুন বিস্তারিত

ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএল। প্রতিবছরই বিপিএল শুরু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: