Breaking News
Home / Cricket / পরের বিশ্বকাপে দেখতে পারব না আর কোনো রূপকথার গল্প

পরের বিশ্বকাপে দেখতে পারব না আর কোনো রূপকথার গল্প

দেখবো না কোনো রূপকথা:

বিশ্বকাপের একটি দারুন দিক কী জানেন? এসোসিয়েট নেশনগুলার খেলা। এসোসিয়েট নেশনগুলোই জানায় ক্রিকেট আসলে কতটা এগিয়েছে। এই এসোসিয়েট নেশন গুলার খেলায় পাওয়া যায় অনেক নতুনত্ব। যেমন নতুন প্লেয়ারদের পরিচয়। নতুন সংস্কৃতি আর দলের পরিচয়। সবই একজন ক্রিকেট প্রেমীর জন্য একেকটি আদর্শ উপকরণ। এই এসোসিয়েট নেশনই জন্ম দিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বে রূপকথার গল্প।

শুরুটা আমাদের দিয়েই করি। ভয়ার্ত টাইগার্সদের হুংকারটাও ঐ এসোসিয়েট নেশন থাকাকালীন ছিলো। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট। প্রথম বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে পাকিস্তান।মোট ২২৩ রানের টার্গেট দিয়ে বল হাতে পাকিস্তানকে মাত্র ১৬১ রানে অল আউট করে দিল টাইগাররা। কেই বা ভেবেছিলো এমনটা হবে?

২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে চমকে দেয় আয়ারল্যান্ড । তাদের কয়েকটা অঘটনের মধ্যে একটা হলো ২০০৭এ পাকিস্তানকে হারানো। এই ম্যাচটাই ছিলো আইরিশদের জাগরনের প্রথম দামামা।

সেই ম্যাচে মাত্র ৪৬ ওভারেই ১৩২ রানেই অলআউট করে দেয়। আয়ারল্যান্ড ঐ ম্যচাচ জিতে ৩ উইকেটে। ঐটাই আয়ারল্যান্ডের সর্বপ্থম কোনো টেস্ট প্লেয়িং নেশনের বিপক্ষে জয় ছিলো।

২০০৭ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তান, বাংলাদেশকে পরাভূত করার পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের সাথে টাই করে বোঝায় ক্রিকেট বিশ্বের নবজাগরনের। ২রা মার্চ ২০১১, বিশ্বকাপ ম্যাচ- আয়ারল্যান্ড বনাম কেভিন পিটারসনের ৫০ বলে ৫৯, জনাথন ট্রটের ৯২ বলে ৯২, ইয়ান বেলের ৮৯ বলে ৮১ এর সুবাদে স্কোর ওঠে ৩২৮/৮.

টার্গেট চেজের শুরুতেই গ্রেম সোয়ান, টিম ব্রেসনেন ও জেমস এন্ডারসনের বোলিংয়ের তোপে ১১১ রানে আইরিশরা ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে। নিশ্চিত হার ব্যাতিত কিছুই দেখছিলো না আইরিশরা। এমতাবস্থায় ঘটে কেভিন ও ব্রায়ানের আবির্ভাব। এলেক্স কুসেককে নিয়ে গড়ে ১৬২ রানের ঝড়ো জুটি। ৬৩ বলে ১৩টি চার ও ৬ ছক্কায় ১১৩ রানের ইনিংসটি ছিলো সেদিন আইরিশ রূপকথার একটি অলাংকৃত অংশ।

এই ইনিংসটির বদৌলতে আইরিশরা ইংল্যান্ডের ৩২৮ রানের টার্গেট চেজ করে ৫ বল হাতে রেখে। পায় ৩ উইকেটের বড় জয়। রচিত হয় আরেক আইরিশ রূপকথার। বিপদেই নায়কের জন্ম তার প্রমাণ আরেকবার পায় ক্রিকেট বিশ্ব। বিশ্বকাপের দ্রুততম শতকটিও তারই ব্যাটে।

আয়ারল্যান্ড ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে আবার সাড়া ফেলে দেয়, যদিও তখন আর সেটি অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। প্রথম ম্যাচে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০৪/৭, আয়ারল্যান্ড ৩০৭/৬), দ্বিতীয় ম্যাচে হারায় আরব আমিরাতকে। এরপর হারায় জিম্বাবুয়েকে (আয়ারল্যান্ড ৩৩১/৮, জিম্বাবুয়ে ৩২৬)। ইংল্যান্ডের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি জেতায় তাদের মিডিয়া নাম দেয় “ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন”।

বিশ্বকাপ শেষে আইসিসি টুইটারে আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপকে “memorable and inspiring” বলে টুইট করলে উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড আইসিসিকে ট্যাগ করে লেখেন “So memorable and inspiring that you have decided to cut the next WC to 10 teams, What is your vision for the game of cricket?”

কেনিয়ার গল্পটিও পুরাতন নয়। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে চন্দ্রপলদের ওয়েষ্ট ইন্ডিজের সাথের ম্যাচে ১৬৬ রানে অল আউট হয়। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ৭৩ রানে অল আউট করেছিলো কেনিয়া। আর ২০০৩ এর সেমিফাইনালিষ্ট হবার কাহিনী বলে কাউকে আর মনে করালাম না কতটাই অবাককর ছিলো কেনিয়া।

কানাডাও দিয়েছে চমকের পরিচয়। বাংলাদেশকে ১৮০ রানের টার্গেটে ১২০ রানে অলআউট করেছিলো কানাডা।

কত স্মৃতির জন্ম দিয়েছিলো এই এসোসিয়েট নেশনগুলো বিশ্বকাপে। কায়েল কয়েটজারের সেই ১৫৬ রান, আরব আমিরাতের চমক শাইমান আনোয়ার, প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে আসা বারমুডার মোটাসোটা ভদ্রলোক ডোয়াইন লেভারক স্লিপে অসাধারণ এক ক্যাচ নিয়ে আলোচনায় উঠে আসা আরও কত কী?

গল্পগুলা লিখতে গেলে হয়তবা রাত থেকে দিন হয়ে যাবে। তবুও শেষ হবে না।

১৯৭৫- পূর্ব আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা

১৯৭৯- শ্রীলঙ্কা, কানাডা

১৯৮৩- জিম্বাবুয়ে

১৯৮৭- জিম্বাবুয়ে

১৯৯২- জিম্বাবুয়ে

১৯৯৬- কেনিয়া, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত

১৯৯৯- বাংলাদেশ, কেনিয়া, স্কটল্যান্ড

২০০৩- কেনিয়া, কানাডা, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস

২০০৭- বারমুডা, কানাডা, কেনিয়া, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড

২০১১- কানাডা, আয়ারল্যান্ড, কেনিয়া, নেদারল্যান্ডস

২০১৫- আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত

কিন্তু ২০১৯: সব টেস্ট খেলুড়ে দল।

জ্বী ভাই। সব বললেও ভূল হবে। কারন জিম্বাবুয়ে আর সদ্য টেস্ট সদস্য প্রাপ্ত আইরিশরাতো নাই। যেখানে টেস্ট ২টি নেশনই নেই সেখানে এসোসিয়েট থাকবে কিভাবে?

সত্যি বলছি পরের বিশ্বকাপই আমার চোখে একটা রাবিশ বিশ্বকাপ হবে। কারন কোনো এসোসিয়েট নেশনের চমক থাকবে না। আফসোস করে বলতে হবে রূপকথা নেই। কারন পরের বিশ্বকাপেতো দেখতে পারব না আর কোনো রূপকথার গল্প। ধন্যবাদ আইসিসি এই মহৎ উদ্যোগটি নেবার জন্য।

লেখাঃ সাদমান সাকিব অর্ণব

ক্রিকসেল ফেসবুক গ্রুপ থেকে

Check Also

সুখবরঃ বিসিবির নতুন নিয়মে সুযোগ পাচ্ছেন তারা, তালিকার শীর্ষে আছেন আশরাফুল। ২য় শাহরিয়ার নাফিস। পড়ুন বিস্তারিত

ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএল। প্রতিবছরই বিপিএল শুরু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: