Breaking News
Home / Cricket / দেশের হয়ে ১৩তম অভিষিক্ত হাফ সেঞ্চুরিয়ান শুভ জন্মদিন

দেশের হয়ে ১৩তম অভিষিক্ত হাফ সেঞ্চুরিয়ান শুভ জন্মদিন

শুভ জন্মদিন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ২৩শে মার্চ, ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন।

বাবা মারা যাওয়ার দিনই বিকেলে তাকে প্যাড আর ব্যাট হাতে নিয়ে যেতে হয়েছিলো প্রাক্টিসে। কারন বাবা চলে গেছে। তো কী হয়েছে? তার স্বপ্নতো চলে যায়নি। কারন স্বপ্ন কখনওই মরে না।

অধিনায়ক হিসেবে তার আদর্শ মহেন্দ্র সিং ধোনী। যখন অনুর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক ছিলেন তখন ধোনীকেই অনুসরণ করতেন তিনি। কিন্তু প্রিয় ক্রিকেটার হিসেবে নাসির হোসেনকেই অনুসরণ করেন বেশি। নাসিরের ব্যাটিং স্টাইল, চাপ সামলানোর দক্ষতার প্রশংসা তিনি এর আগেও অনেকবার করেছেন। নাসিরের সাথে মিলিয়ে নিজের জার্সি নাম্বারও রেখেছিলেন ” ৬৯”। জ্বী আমি বলছি মোসাদ্দেকের কথা।


ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া সংস্থায় চাকরি করতেন মোসাদ্দেকের পিতা আবুল কাশেম। শৈশব থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ছেলের আগ্রহ দেখে তিনি একটি স্থানীয় ক্লাবে ভর্তি করিয়ে দেন মোসাদ্দেককে। সেখান থেকে মোসাদ্দেকের ক্রিকেটীয় জীবনের শুরু। ২২ গজের যুদ্ধে তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন তার পিতা।

স্বপ্ন ছিলো ছেলেকে ক্রিকেটার বানাবেন।

তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। ২০০৮ জীবনযুদ্ধে ঠেলে দিয়ে পরলোক গমন করেন আবুল কাশেম। সংসারে শুরু হয় অনটন। অভাবের তাড়নায় শহরতলীর জমিও বিক্রি করেছেন মা হোসনে আরা বেগম। তবু নিজের বাবার স্বপ্ন থেকে এক চুলও পিছপা হননি মোসাদ্দেক, সংগ্রাম করেছেন। রপ্ত করে নিয়েছেন ২২ গজের মধ্যে যুদ্ধ করার প্রত্যেকটি কৌশল। মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফ স্পিন বোলার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন মোসাদ্দেক।

২০০৮ সালে ইহসংসারের মায়া ত্যাগ করে তার বাবা যখন পরলোকগমন করলেন তাদের সংসারের হাল বড় ভাই মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে। ৩ ভাই তারা। ৩ জনই অলরাউন্ডার। ৩ জনের ব্যাটিং-বোলিং স্টাইলই এক ধরণের। বড়জন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত দেশের অন্যতম সেরা তরুণ ক্রিকেটারদের একজন। আর পরের দুজন যমজ। মোসাব্বেক হোসেন সার মোসাব্বের হোসেন মুন।


২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ২০১৩-১৪ মৌসুমে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে দুইবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এপ্রিল, ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চারদিনের দুইখেলার সিরিজে অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। প্রথম খেলায় ১০৭ ও দ্বিতীয় খেলায় ৭৪ করেন। এর অব্যবহিত পরই পাঁচ খেলার সীমিত ওভারে দুইশতাধিক রান তোলেন। তন্মধ্যে, তৃতীয় খেলায় ৯৮ তোলে বাংলাদেশকে এক উইকেটের নাটকীয় বিজয়ে প্রভূতঃ সহায়তা করেন। ঐ বছরে ইংল্যান্ডেও তিনি চমকপ্রদ অল-রাউন্ড খেলা অব্যাহত রাখেন। ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিরুদ্ধে ১১৩ বলে অপরাজিত ১১০* ও ১০ ওভারে ৩/৩৮ লাভ করে ৩৮ রানের বিজয় এনে দেন।


অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ৩৭ ম্যাচে প্রায় ৪০ ব্যাটিং গড়ে রান করেছেন ১১৮৫ এবং উইকেট নিয়েছেন ৩১ টি।

২০১৩ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও লিস্ট এ ক্রিকেট খেলছেন।

২০১৩/১৪ মৌসুমের প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে আবাহনীর হয়ে সুযোগ পেয়েছিলেন খেলার এবং সেই সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন তিনি। সেবার ৯ ম্যাচ খেলে ৫৪ গড়ে রান করেছিলেন ৪৩৫। যার মধ্যে ছিল একটি সেঞ্চুরীও। দেখে বুঝাই যায়নি যে নিজের প্রথম মৌসুম খেলতে নেমেছিলেন তিনি।


২০১৪-১৫ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে উপর্যুপরি ২৫০ ও ২৮২ রান করেন। এছাড়াও, নিজস্ব ১০ম খেলায় সহস্রাধিক প্রথম-শ্রেণীর রান তোলেন। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে তিনটি দ্বি-শতক রান করেছেন।

এখন পর্যন্ত তার ঘরোয়া লীগের ক্যারিয়ারটি নিচে দেওয়া হলো।

প্রথম শ্রেণী:
ম্যাচ- ২৪
রান- ২১৮৪
গড়- ৬৯
শতক: ৮
অর্ধশতক: ১০
সর্বোচ্চ-২৮২
উইকেট- ১৭ টি
লিস্ট এ:
ম্যাচ- ৬১
রান- ১৭২৪
গড়- ৪৪
শতক:২
অর্ধশতক:১০
সর্বোচ্চ- ১১০
উইকেট- ৩২ টি

একের পর এক পার্ফরমেন্স নির্বাচকদের তাকে নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ ২০১৬ এর চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর হয়ে ১৪ ম্যাচে ৭৭.৭৫ গড়ে ৬২২ রান করার সুবাদে কোচ হাথুরুসিংহে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে পরীক্ষা নেন ২১ বছর বয়সী এ ক্রিকেটারের।


২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে বাংলাদেশের ১১৯তম ওডিআই ক্রিকেটার হিসেবে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের কাছ থেকে ক্যাপ গ্রহণ করেন ও ঐদিনই আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের ২য় ওডিআইয়ে অভিষেক ঘটে তার। প্রথম ইনিংসে ৭ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৫ বলের মোকাবেলায় মহামূল্যবান ও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৫ রান তোলেন। এরপর বোলিংয়ে নেমে প্রথম বলেই হাশমতউল্লাহ শহীদির উইকেট তুলে নেন। নির্ধারিত ১০ ওভারে তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ২/৩১। এছাড়াও একটি ক্যাচ নেন তিনি।


ব্যাস সেই থেকেই বাংলাদেশ দলের একজন অন্যতম সদস্য তিনি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও একটি অর্ধশতক হাকানোর রেকর্ড রয়েছে তার। ৮৬তম খেলোয়াড় হিসেবে সাদা পোশাকটা গায়ে চাড়িয়েছেন বাংলাদেশের ঐতিহাসিক শততম টেস্টেই। অষ্টম উইকেটে ব্যাট করতে নেমে ৭৫ রান তুলে গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড।

দেশের হয়ে ১৩তম অভিষিক্ত হাফ সেঞ্চুরিয়ান। আবার শততম টেস্টে অভিষিক্ত হওয়া কোনো ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ ইনিংসটিও এখন তার দখলে।


এর আগে ১৯০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের শততম টেস্টে অভিষিক্ত হয়ে সর্বোচ্চ ৬১ রান তুলেছিলেন জ্যাক শার্প। লঙ্কান বধে তার ইনিংসটির গুরুত্ব কোনোভাবেই এতটুকু খাটো করে দেখার উপায় নেই। বলতে গেলে মোকাদ্দেকই ইনিংসের ব্যবধানটা বাড়িয়ে জয়টা সহজ করে দেয়। ম্যাচ শেষে তামিম ইকবাল কথাটি অকপটেই শিকার করেছেন।


খেলেছেন ১ টেস্টে ৪৪ রান করেছেন ৮৮, রয়েছে একটি অর্ধশতক। সর্বোচ্চ স্কোর ৮৩।
১৮ ওয়ানডেতে ৩৩ গড়ে তার সংগ্রহ ২৮৮ রান। ১টি অর্ধশতকও রয়েছে। স্ট্রাইকরেটে ৯১. বল হাতে এসেছে ১০ উইকেট।

৬ টি২০তে ২০ গড়ে করেছে ৯৯ রান। স্ট্রাইকরেট ১১০. পেয়েছেন ২টি উইকেট।


শততম টেস্টে বিজয়ের পর গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বিজয় মিছিল। চিবুক বেয়ে আনন্দাশ্রু ঝড়েছে মা হোসনে আরা বেগমের।

পরিবারের জ্যৈষ্ঠ সন্তান মোসাদ্দেক গোটা দেশকে এমন একটি আনন্দঘন দিনের উপহার দিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে তা তো স্বপ্নেও ভাবেননি তিনি। ছেলের জন্য এখন গর্ব হয় তার। ছেলের এ ঐতিহাসিক সাফল্য মমতাময়ী মায়ের কাছে অনেকটাই আনন্দ-বেদনার কাব্যের মতোই।


কিন্তু আরো বড় স্বপ্ন দেখেন হোসনে আরা বেগম। স্বপ্ন দেখেন মোসাদ্দেকের মতন ক্রিকেটার হবেন তার আরও ২ সন্তান সান ও মুন। স্বপ্ন দেখেন ৩ ভাই একই সাথে খেলবেন জাতীয় দলে। হয়তবা একদিন তাই হবে। কারন স্বপ্ন কখনও মরে না।

রইলো জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

লেখাঃ সাদমান সাকিব অর্ণব

Check Also

সুখবরঃ বিসিবির নতুন নিয়মে সুযোগ পাচ্ছেন তারা, তালিকার শীর্ষে আছেন আশরাফুল। ২য় শাহরিয়ার নাফিস। পড়ুন বিস্তারিত

ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএল। প্রতিবছরই বিপিএল শুরু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: