Breaking News
Home / News / উৎসবের ভীড়ে তীব্র যানজট। ‘গাড়ি আটকে’ দিনভর ভোগান্তি

উৎসবের ভীড়ে তীব্র যানজট। ‘গাড়ি আটকে’ দিনভর ভোগান্তি

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন উপলক্ষে সরকারি উদযাপনের দিনে রাজধানীর কেন্দ্রে উৎসবস্থলের আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়েছে গাড়ি, যাতে অপরদিকে রাস্তা ফাঁকা থাকলেও গণপরিবহন সঙ্কটে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে নগরবাসীকে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শোভাযাত্রা নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামমুখী হওয়ায় দুপুর থেকেই পল্টন, প্রেস ক্লাব, শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এতে আশপাশের এলাকায় যানজট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য জায়গায় গণপরিবহনের উপস্থিতি কমে যায়। পরিবহন সঙ্কটের কারণে অনেকেই গন্তব্যে রওনা হন পায়ে হেঁটে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন। এরপর রাজধানীর নয়টি স্থান থেকে ৫৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে শোভাযাত্রা করে রওনা হন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের পথে।

দুপুরে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও ব্যানার নিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে উন্নয়নের স্লোগান দিতে দেখা যায়। বিকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোক উৎসব।

এই আয়োজন বেশ কিছু এলাকায় যান চলাচল সীমিত করায় বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্টেডিয়াম ও চারপাশের সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হবে বলে আগেই সতর্ক করেছিল ঢাকার পুলিশ।

আমাদের প্রতিবেদকরা জানান, দুপুরে রামপুরা, মৌচাক, মালিবাগ, কাকরাইল এলাকায় গণপরিবহন ছিল একেবারেই কম। সড়কে সিটিং সার্ভিসের বাসগুলোও দেখা যায়নি। কাকরাইল থেকে মৎস্য ভবন, নাবিস্কো, সাত রাস্তা ও মগবাজারের পথ ছিল প্রায় ফাঁকা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক ওবায়ুর মাসুম জানান, বেলা আড়াইটার দিকে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় যানবাহন চলাচল ছিল খুবই কম। মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের চিত্রও ছিল একই রকম।
হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে গুলিস্তানগামী মোটর সাইকেল ও প্রাইভেটকারগুলোকে চাঁনখারপুলের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

পল্টন ও প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার কারণে নগর ভবনের সামনের সড়ক, গোলাপ শাহ মাজার এবং গুলিস্তান এলাকায় তৈরি হয় যানজট।

প্রতিবেদক ফয়সাল আতিক জানান, বিকাল ৩টার দিকে মহাখালী রেলক্রসিং এলাকায় টঙ্গী ও উত্তরাগামী এবং ফার্মগেইট, শাহবাগ ও গুলিস্তানগামী যাত্রীদের গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সেখানে শারমিন আক্তার নামের এক নারী বলেন, প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও ফার্মগেইটের কোনো বাস আসতে দেখেননি তিনি।

অবশ্য গাবতলী, মিরপুর ও শ্যামলীগামী যাত্রীরা গন্তব্যে গেছেন বেশ নির্বিঘ্নে। শ্যামলী হয়ে মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদগামী লেগুনার চালক ইমাম হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বাড্ডা থেকে শিয়া মসজিদ যাওয়ার পথে তাকে কোথাও যানজটে পড়তে হয়নি।

মহাখালী হয়ে সাভার গাবতলীগামী আলিফ, অগ্রদূত, বৈশাখী পরিবহনের বাসগুলোও যাত্রী নিয়ে মোটামুটি নির্বিঘ্নে গন্তব্যে আসা যাওয়া করেছে বলে চালক ও সহকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক তাবারুল হক জানান, দুপুরে কারওয়ান বাজার থেকে শাহবাগের দিকে গণপরিবহন এগিয়েছে খুব ধীর গতিতে। রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কম হওয়ায় অনেকেই পায়ে হেঁটে শাহবাগের দিকে যান।
তবে মিরপুর ১২ থেকে ফার্মগেইটের পথে অন্য দিনের মত যানজট ছিল না। বরং রাস্তা ছিল তুলনামূলকভাবে ফাঁকা।

ওই সময় মোহাম্মদপুর থেকে ধানমন্ডি হয়ে সায়েন্সল্যাবের দিকে যেসব গাড়ি যাচ্ছিল, সেগুলোকে যানজটের মধ্যে পড়তে হয়। অন্যদিকে নীলক্ষেত থেকে সায়েন্সল্যাব হয়ে মিরপুর রোডে গাড়ির চাপ ছিল কম।

বিকালে নীলক্ষেত মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্য জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি দুপুর ২টা থেকে ডিউটি করছি। রাস্তায় গাড়ি বেশি নাই। ফলে যানজটও নাই।”

দোয়েল চত্বর থেকে সচিবালয়-জিপিও হয়ে শোভাযাত্রা যাওয়ার পর ডাইভারশন খুলে দিলে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয় বলে আমাদের প্রতিবেদক সাজিয়া আফরিন জানান। প্রতিবেদক ফারহান ফেরদৌস জানান, শোভাযাত্রার কারণে দৈনিক বাংলা মোড় থেকে প্রেস ক্লাবের রাস্তা পুলিশ আটকে দেয়। মতিঝিল এলাকায় গণপরিবহন দেখা যায় খুব কম। দীর্ঘ সময় পর পর একটি বাস এলে হুমড়ি খেয়ে পড়ছিলেন যাত্রীরা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক কাজী মোবারক হোসেন জানান, বেলা ১টার দিকে রামপুরা টিভি ভবনের সামনে তুরাগ পরিবহনের একটি বাস আসার পর ৫০-৬০ জন যাত্রীকে একসঙ্গে তাতে ওঠার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

রফিকুল ইসলাম নামের একজন সেখানে জানান, গুলিস্তানে যাওয়ার জন্য এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি কোনো বাসে উঠতে পারেননি।

বিজয়নগর পানির ট্যাংক এলাকা থেকে কাকরাইলে রাস্তায় যানজট থাকলেও মৎস্য ভবন এলাকায় বেলা আড়াইটার দিকে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

গণপরিবহন কম থাকায় মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে হেঁটে যেতে দেখা যায় অনেককে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফুয়াদ তানভীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ধানমন্ডি থেকে মহাখালী আসতে তার দীর্ঘ সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।

রাস্তায় গণপরিবহন কম কেন জানতে চাইলে শংকর থেকে ছেড়ে আসা ‘মালঞ্চ’ পরিবহনের চালক সোহেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গাড়ি কমায় নাই। তবে গাড়ি আটকায়ে আছে।”
মিরপুর থেকে সদরঘাটগামী মিরপুর ইউনাইটেড পরিবহনের অন্যতম ব্যবস্থাপক এমএন আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, তাদের ১৫টি গাড়ির সবগুলোই রাস্তায় আছে।

বিকালে মোহাম্মদপুর থেকে ধূপখোলা রুটের বাস চালক শাহীন জানান, শাহবাগ না গিয়ে নিউ মার্কেট হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে দিয়ে এসেছেন তিনি। নগর ভবনের সামনে কিছুটা যানজটে পড়তে হয়েছে।

গুলিস্তান থেকে নর্থ সাউথ রোড হয়ে সদরঘাটগামী সড়কেও যান চলাচল ছিল কম। দীর্ঘ সময় গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় যাত্রীদের। অনেকে হেঁটে রওনা হন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

অন্যদিকে সদরঘাটের দিক থেকে গুলিস্তানগামী যানবাহনগুলো গুলিস্তান এসে দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকে।
বিকালে প্রাইভেটকারের চালক বাবুল শেখ জানান, লালবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁনখারপুল হয়ে তার গুলিস্তান যেতে সময় লেগেছে আধা ঘণ্টা। কিন্তু তারপর আর এগোতে পারছেন না। গোলাপ শাহ মাজারের সামনেই এক ঘণ্টা জটে আটকে থাকতে হয়েছে। মতিঝিলে পৌঁছাতে কতক্ষণ লাগবে বুঝতে পারছেন না।

আর বেলায়েত হোসেন খান নামে একজন জানান, তিনি মতিঝিল থেকে গাড়ি না পেয়ে হেঁটে শহীদ মিনার পর্যন্ত যান। সেখান থেকে নীলক্ষেতে গেছেন রিকশায় করে।

দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই অবস্থার মধ্যে সাড়ে ৭টার দিকে উৎসবস্থল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগমণ উপলক্ষে বেশ কিছুক্ষণ আগে থেকেই গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড় হয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সন্ধ্যার পর গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় এলাকায় যানজট আরও তীব্র হয়।
গুলিস্তানের বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারে গিয়ে বাসের অপেক্ষায় যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। একই অবস্থা দেখা যায় গুলিস্তান হয়ে চলাচলকারী নগর পরিবহনের বাসের ক্ষেত্রেও।

মাওয়া রুটের ইলিশ পরিবহনের যাত্রী শাহাদাত হোসেন রাত পৌনে ৮টার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এক ঘণ্টার বেশি বাসের অপেক্ষায় আছেন তিনি।

“টিকেট কাইটা বইসা আছি এক ঘণ্টার বেশি হবে। গাড়ি আসে না। কাউন্টার থেকে বলতেছে, জ্যামের জন্য গাড়ি আসতে পারতেছে না।”

Check Also

আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে দারুন সুখবর বাংলাদেশী প্রবাসীদের

গত মাসে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত দু’দিনব্যাপী ৪র্থ বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ কমিশন সভায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন এম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: